রুবেল রানা, ঠাকুরগাঁওঃ ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ওই স্কুলের সহকারি শিক্ষক মোজাম্মেল হক মানিকের বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শনিবার (৮ মার্চ) জেলা সদরের আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ৬৩নং কচুবাড়ি মাদারগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
ভূক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, বিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোজাম্মেল হক মানিক স্কুলের বাচ্চাদের প্রাইভেট পড়ান। প্রতিদিনের মতো প্রাইভেটে যায় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী। এ সময় সুযোগ বুঝে একটি কক্ষে নিয়ে পাশবিক নির্যাতনের পর ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় পাষন্ড শিক্ষক।
পরবর্তিতে শিশুটির চিৎকার চেচামেচিতে স্থানীয় এগিয়ে আসার আগেই ওই শিক্ষকের লোকজন তাকে উদ্ধার করে জেলা শহরের সেবা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগস্টিক সেন্টার নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসে। গোপনে চিকিৎসা দেয়ার চেস্টা করার কথা জানতে পেরে সাংবাদকর্মীরা ছুটে গেলে দ্রুত সময়ে শিশুটি জেনারেল হাসপাতালে হস্তান্তর করে প্রতিষ্ঠান কতৃপক্ষ।
এসময় সংবাদকর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে বাধা দেয়। ওই প্রতিষ্ঠানের সবুজসহ ধর্ষকের দালালেরা। ক্যামরা ছিনিয়ে নেয়ার চেস্টা করলে। জেলা অন্যান্য গণমাধ্যকর্মীদের উপস্থিতিতে তারা পালিয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে অনৈতিক কাজের চিকিৎসা দিয়ে মোটা অংঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয় জড়িতরা।
এরইমধ্যে ভুক্তভোগীর স্বজনরা এসে মেয়েটিকে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। এসময় তারা অভিযোগ করে বলেন, সমাজের এমন মানুষরুপী জানোয়ারদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। ইতিমধ্যে অপরাধীকে বাঁচাতে নানা রকম পায়তারা চলছে। প্রভাবশালী রাজনীতিক নেতারা ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে ওই ভুক্তভোগী শিশুকে সরকারি হাসপাতালে না পাঠিয়ে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে আসে। অভিযুক্ত শিক্ষককে দ্রুত আটক করার দাবি করেন তারা।
পরবর্তিতে খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা দ্রুত ছুটে যান হাসপাতালে, ঘটনা পর্যলোচনা করে ভুক্তভোগীকে সহায়তার পাশপাশি দোষি ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) রকিবুল আলম জানান, ধর্ষণের অভিযোগে একটি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি এবং এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ডাক্তারি পরীক্ষা নীরিক্ষা চলছে। এই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরেফা খাতুন বলেন, বিদ্যালয় বন্ধ আছে। আমরা কাউকে কোচিং করার অনুমতিও দেইনি। আমি ওই শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি কিন্তু তার মুঠোফোন বন্ধ। আমি বিস্তারিত জেনে আমার শিক্ষা অফিসার কে অবগত করবো।
এ বিষয়ে ভুল্লি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মোজাম্মেল হক মানিকে তার বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে।


0 coment rios: