ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁও জেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও কার্য সহকারীদের উপর অব্যাহত হামলা এবং হুমকি প্রদানের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ ও সার্বিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদানের দাবিতে মানববন্ধন পালিত হয়েছে।
আজ সোমবার ১০ (মার্চ) দুপুরে সদর উপজেলা কার্যালয় সামনে এলজিইডি প্রকৌশল পরিবারের আয়োজনে এ মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে সদর উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাজিবুল হাসান, সদর উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাশিদুল ইসলাম, সার্ভেয়ার মোস্তাফিজুর রহমানসহ সদর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
ঘন্টাব্যাপি এ কর্মসুচি চলাকালে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সুষ্ঠভাবে সরকারের কাজ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে এলজিইডির কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা হামলার শিকার হচ্ছে। শুধুমাত্র চাঁদা দিতে অস্বীকার করায়। একইসাথে অবিলম্বে এসব সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি করেন তারা।
অন্যথায় আরো কঠোর কর্মসুচি পালনের হুশিয়ারীসহ সকল রাস্তাঘাট, ব্রীজ, কালভার্ড, ভবনসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে বলে জানান তারা।
উল্লেখ্য গত শনিবার দুপুরে IRIDP-3 প্রকল্পের আওতায় জেলা সদরে রসুলপুর টু শিবগঞ্জ শারালী সরকারি প্রাইমারী বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি সড়কের কার্পেটিং কাজ করছিলো শ্রমিকরা। এ সময় ওই এলাকার আলম, আবু হোসেন মতিউর ও আরিফসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২০ জনের একটি দল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডির) কার্য সহকারী রেজওয়ানুল হকের পথরোধ করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে।
চাঁদা দিতে না পারায় সড়কের কার্পেটিং কাজ বন্ধ করে দেয়। এসময় কথাকাটির এক পর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে তাকে মারধর করে। এতে রেজওয়ানল হক গুরুতর আহত হয়।
খবর পেয়ে এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মোঃ ফরহাদ হোসেন সৌরভ, উপ সহকারী প্রকৌশলী রাজিবুল হাসান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাজমুস সাকিব আকাশ ও ল্যাব সহকারী আমিনুল ইসলাম রেজওয়ানুল হককে দুর্বৃত্তদের হাত থেকে রক্ষা করতে গেলে তাদের উপরেও হামলা করে। পরে তারাও আহত হলে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। বর্তমানে কিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
এ ঘটনায় রোববার (৯ মার্চ) সদর থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ আরো অজ্ঞাত ২০ নামে একটি মামলা দায়ের করেন প্রতিষ্ঠানটির কার্য সহকারী রেজওয়ানল হক।
অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত মতিউর ও আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা মুঠোফোনে জানান, কাজের অনিয়ম হওয়ায় কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে প্রকৌশলীদের মারধরের বিষয়টি এড়িয়ে যান তারা।


0 coment rios: